TechTricks

HerPower প্রকল্পের নারীদের জন্য ফ্রি ফ্রিল্যািন্সিং কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি।

আমরা ইতিমধ্যে একটি পোস্টের মাধ্যমে জেনেছি যে নারীদের জন্য সারা দেশব্যাপী HerPower প্রকল্পের আওতায় ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের আয়োজনের করা হয়েছে। যারা আমার সেই পোস্টটি দেখেননি, তারা চাইলে এই “নারীদের জন্য হার প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং সহ আরও অনেক ধরণের ফ্রি কোর্স, সাথে গিফট হিসেবে থাকছে লাপটপ সহ যাতায়াত খরচ।” পোস্টটিতে ঘুরে আসতে পারেন। তারপরও এখানে সংক্ষেপে কিছু কথা বলে নেই। সরকারীভাবে নারীদেরকে বিভিন্ন বিষয়ের ফ্রি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যা বা বাংলাদেশের ৪৪টি জেলা এবং ১৩০টি উপজেলার নাগরিকদের প্রদান করা হবে। তবে হ্যাঁ আবারও বলে নেই এটা শুধু নারীদের জন্য। মোট ছয়টি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং প্রশিক্ষণ শেষে একটি সরকারি সনদ বা সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এছাড়াও পুরস্কার হিসেবে একটি ল্যাপটপ ও যাতায়াত ভাড়া প্রদান করা হবে। তো এই ছিলো মোটামুটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এখন যারা কোর্স করতে ইচ্ছুক তাদের কোর্স করার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন কিভাবে করবেন তার বিস্তারিত তথ্য আমি নিচে স্ক্রিনশটসহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরলাম।

আবেদন করার পদ্ধতি:

ফ্রি বিভিন্ন বিষয়ের উপর কোর্স করার জন্য এই লিংকে প্রবেশ বা ভিজিট করুন। ভিজিট করার স্ক্রল করে একটু নিচের দিকে যান। তাহলে দেখবেন যে যে বিষয়গুলির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে সেগুলোর তালিকা দেখা যাবে।

এইবার এখানে যে বিষয়গুলি রয়েছে সেগুলো থেকে কোনটি আপনি গ্রহণ করতে চান বা করতে ইচ্ছুক সেটির নিচের ডানদিক থেকে নিবন্ধন বাটনে ক্লিক করুন। যেমন আমি এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইনটাতে আবেদন করবো।

নিবন্ধন বাটনে ক্লিক করার পর এইভাবে আসবে। এখানে কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া রয়েছে, চাইলে ভালো করে জেনে নিতে পারেন। তবে এখানে আপনাকে যে মূল কাজ করতে হবে তা হলো চলমান ব্যাচ নির্বাচন করুন এর নিচ থেকে আপনার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা সিলেক্ট করুন বা নির্বাচন করুন। তাহলেই দেখবেন আপনার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কোর্সের ব্যাচের বিবরণ চলে আসবে। তো এখান থেকে আপনি কোন ব্যাচে আবেদন করতে চান, সেটির পাশের আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর উপরের স্ক্রিনশটের মতো আসবে। এখানে দুটি অপশন আমরা দেখতে পারবো লগইন করুন এবং নিবন্ধন করুন। তো যেহেতু আমরা এখনও কোনো নিবন্ধন করিনি। সেহেতু আমাদের নিবন্ধন করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাই আমরা নিবন্ধন করুন বাটনে ক্লিক করলাম।

এইবার উপরের স্ক্রিনশটের মতো আসবে। এখানে বেশকিছু শর্ত দেওয়া আছে। যদি আপনার শর্তগুলি পূরণ করার সামর্থ্য থাকে তাহলে সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য সকলকিছুতে সম্মতি প্রদান করেছেন এই মর্মে চেক মার্ক দিয়ে অর্থাৎ টিকমার্ক দিয়ে এগিয়ে যান বাটনে ক্লিক করুন।

এইবার দেখুন নিবন্ধন করার প্রথম ধাপটি চলে এসেছে। এখানে আপনাকে প্রথমে আপনার মোবাইল নম্বরটি ভেরিফাই করতে হবে। এর জন্য মোবাইল নম্বরের ঘরে আপনার মোবাইল নম্বরটি লিখুন। আর নিচের খালি ঘরটিতে উপরোল্লিখিত সংখ্যার গাণিতিক ফল বসিয়ে বা লিখে ওটিপি পাঠান বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলেই দেখবেন আপনি যে নম্বরটি দিয়েছেন সেটিতে একটি ওটিপি পিন গিয়েছে। সেটি দেখে উপরের স্ক্রিনশটের মতো Mobile ওটিপি এর ঘরে লিখে দিন। তারপর ওটিপি যাচাই করুন বাটনে ক্লিক করুন।

এইবার আসলো নিবন্ধন করার মূল ধাপ। এখানে আপনাকে আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হবে। তো এখানে দুই ধরণের ডকুমেন্ট দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এক হলো জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর দিয়ে। আরেক হলো জন্ম নিবন্ধন দিয়ে। এখন কথা হচ্ছে আপনি কোনটি দিয়ে করবেন। তার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আপনার যদি এনআইডি না থাকে তাহলে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করবেন। আর যদি থাকে তাহলে কিন্তু অবশ্যই এনআইডি নম্বর দিয়ে করবেন। অন্যথায় পরবর্তীতে সমস্যায় পড়বেন। আমি এখানে এনআইডি দিয়ে দেখাবো৷ তাই এনআইডি সিলেক্ট বা নির্বাচন করলাম। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন এর ঘরে নম্বর লিখুন। বাংলায় নিজের নাম ও ইংরেজিতে নিজের নাম লিখুন। পিতার বাংলায় এবং ইংরেজিতে নাম লিখুন। মাতার বাংলায় ও ইংরেজিতে নাম লিখুন। আপনার লিঙ্গ Female সিলেক্ট করুন। তারপর যাচাই করুন বাটনে ক্লিক করুন।

যদি আপনার দেওয়া সকল তথ্য সঠিক থাকে অর্থাৎ এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিলে তাহলে উপরের স্ক্রিনশটের মতো আসবে। এখানে আপনাকে আপনার ইমেইল এর ঘরে ইমেইল অ্যাড্রেস লিখুন। নিচের দুটো ঘরে একই পাসওয়ার্ড লিখুন। তবে হ্যাঁ এই ক্ষেত্রে একটু স্ট্রং পাসওয়ার্ড দেওয়ার চেষ্টা কইরেন। তা না হলে নিবে না। তারপর আপনার স্থায়ী ঠিকানা এর নিচ থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা সিলেক্ট বা নির্বাচন করে দিন এবং নিবন্ধন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর দেখবেন ঠিক উপরের স্ক্রিনশটের মতো আসবে। এখানে আপনাকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ করুন। ইমেইল ভেরিফাই করে নিন। তারপর লগইন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর আপনার নিবন্ধন করা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার জন্য ইমেইল এর ঘরে ইমেইল অ্যাড্রেসটি লিখুন, পাসওয়ার্ডের ঘরে পাসওয়ার্ড লিখুন এবং লগইন বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর দেখবেন ঠিক উপরের স্ক্রিনশটের মতো আপনার প্রোফাইলের ড্যাশবোর্ড চলে আসবে। এখানে স্ক্রল করে নিচের দিকে চলে যান।

স্ক্রল করে নিচে যাওয়ার পর দেখুন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা যুক্ত করার অপশন দেখা যাচ্ছে। তো সেগুলো আপডেট করার জন্য এড বা প্লাস আইকনে ক্লিক করুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার প্লাস আইকনে ক্লিক করার পর এইভাবে আসবে। এখানে আপনার ডিগ্রী সিলেক্ট করুন, কোর্স বা বিষয়ের নাম লিখুন, প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন, পাশে সন, ফলাফল, জিপিএ না ডিভিশন তা সিলেক্ট করুন, উক্ত ডিগ্রীর সনদের স্ক্যান কপি বা ছবি Upload File এর এখানে ক্লিক করে আপলোড করে দিন এবং সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করুন।

গেল শিক্ষাগত যোগ্যতা এইবার হলো দক্ষতা যোগ করার পালা। আপনার যদি কোনো বিষয়ের উপর কমবেশি দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে তাও যুক্ত করতে পারেন। এতে আপনার জন্য ভালো হবে। তো দক্ষতা যোগ করার জন্য দক্ষতা সমূহের প্লাস আইকনে ক্লিক করুন তাহলে দেখবেন উপরের স্ক্রিনশটের মতো আসবে। বাছাই করুন এর ঘরে ক্লিক করলে কোনোকিছু নাও আসতে পারে আসলে আপনি বুঝেশুনে যুক্ত করে নিবেন আর না আসলে কিছু দেওয়ার দরকার নেই। দক্ষতার ঘরে ক্লিক করলে বিভিন্ন সফটওয়্যারের নাম আসতে পারে। তো আপনার যেটির উপর দক্ষতা রয়েছে সেটি সিলেক্ট করুন। দক্ষতার স্তরে আপনি কি কম পারেন নাকি বেশি পারেন নাকি মিডিয়াম পারেন তা সিলেক্ট করুন। অন্যকাউকে উক্ত কাজের উপর প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হলে হ্যাঁ সিলেক্ট করুন অন্যথায় না সিলেক্ট করুন। এবং সর্বশেষ উক্ত দক্ষতার উপর কোনো সনদ থাকলে তার স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করে দিন। তারপর সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করুন। এইভাবে যদি আরও একাধিক কাজ বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকে সরগুলোও যুক্ত করে নিতে পারেন।

তারপর পরবর্তী ধাপে আপনার সকল তথ্য সঠিক এই মর্মে চেক মার্ক বা টিকচিহ্ন দিয়ে আবেদন জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন৷ তাহলেই আপনার আবেদন সম্পন্ন হয়ে যাবে।

আবেদন জমা দিন বাটনে ক্লিক করার পর উপরেে স্ক্রিনশটের মতো এইরকম একটি বার্তা প্রদর্শিত হতে পারে। যদি হয় ok বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর দেখবেন উপরের স্ক্রিনশটের মতো আসবে। যেখানে আপনার আবেদনটি দেখাচ্ছে এবং আবেদনের অবস্থান দেখানো হচ্ছে। তো এই হচ্ছে আবেদন করার মূল প্রসেস বা প্রক্রিয়া। চাইলে পাশাপাশি অন্যান্য তথ্যগুলিও আপডেট করে নিতে পারবেন বাম পাশের প্যানেলে থাকা বাটনগুলির মতো।


যেমন ঠিক উপরের স্ক্রিনশটের মতো। এখানে তথ্য এডিট করতে পেন আইকনটিতে ক্লিক করে করে নিতে পারবেন।

তো এইভাবেই মূলত আপনি HerPower বা হার পাওয়ার এর আওতাধীন সকল কোর্সগুলির জন্য একই প্রসেস বা প্রক্রিয়া ফলো করে আবেদন করতে পারবেন। আর সুযোগ বা চান্স পেলে একজন নারী হিসেবে নিজেকে স্বনির্ভর এবং সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। আর হ্যাঁ, যেহেতু হার পাওয়ারের আওতায় মোট ৬টি বিষয়েে উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তো সেগুলো কি কি? সেগুলোতে কোনটাতে কি কাজ? চান্স পেতে হলে কোনটাতে কি রিকুইয়্যারমেন্ট চেয়েছে অর্থাৎ কোর্সটি করতে হলে কি কি যোগ্যতা এবং কাগজপত্র লাগবে তা নিয়ে আলোচনা করবো। এছাড়াও আরেকটি কথা না বললেই নয়, সেটি হলো সকল জেলা এবং উপজেলার নারীরা কিন্তু এই ৬টি কোর্সের আওতাধীন নয়। এক এক জায়গার জন্য এক এক কোর্স। তো এই বিষয়টি ভালো করে জানতে এই টপিকের উপর আমার প্রথম পোস্টটি দেখে আসতে পারেন। যার লিংক আমি পোস্টের প্রথমেই দিয়ে রেখেছি।

সৌজন্যে : বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং বর্তমান সময়ের বাংলা ভাষায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক টিউটোরিয়াল সাইট – www.TutorialBD71.blogspot.com নিত্যনতুন বিভিন্ন বিষয়ে টিউটোরিয়াল পেতে সাইটটিতে সবসময় ভিজিট করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button