Tech

স্মার্টফোনে স্ক্রিন বার্ন সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়

আপনি যদি আপনার স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে ছায়াময় অংশ বা ছবির অংশবিশেষ দেখতে পান তাহলে আপনার ডিভাইসটি স্ক্রিন বার্নের শিকার হয়ে থাকতে পারে। আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে এটি তুলনামূলক একটি বিরল ঘটনা যেখানে একটি ছবির সমস্ত অংশ বা কিছু অংশ ক্ষীণ ভাবে থেকে যায়, এমনকি যখন আপনার স্ক্রিনে এটি বন্ধ থাকে বা অন্য কিছু দেখানোর কথা তখনও এটি দেখা যেতে পারে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা স্ক্রিন বার্ন কি এবং কিভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায় সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

স্ক্রিন বার্ন কি?

স্ক্রিন বার্ন ইন শব্দটির সাথে পরিচিত হতে গেলে প্রথমেই চলে আসবে ক্যাথোড রে টিউব অথবা সিআরটি ডিসপ্লে এর কথা। এগুলো মূলত অনেক বড় সাইজের পিকচার টিউব সম্বলিত টেলিভিশন এবং কম্পিউটার ডিসপ্লে। সিআরটি ডিসপ্লেতে গ্লাসের মধ্যে একটি ফসফরাস লেয়ার দেওয়া থাকতো।

যেটি টিউবের পিছে থাকা গানের মাধ্যমে ইলেক্ট্রন বিম নিঃসরণ করা হলে জ্বলে উঠতো। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ফসফরাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো বিধায় স্ক্রিনের সামনে বার্নড ইন ইমেজ তৈরি হতো। কম্পিউটিং এর প্রথম যুগে ব্যবহৃত গ্রীন স্ক্রিন মনোক্রোম ডিসপ্লেতে সমস্যাটি বেশি দেখা যেতো।

দূর্ভাগ্যবশত নতুন প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নতি সাধন করলেও এই সমস্যা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও প্রথমে প্লাজমা এবং পরে ওলেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও কিছু লেভেল পর্যন্ত এই সমস্যা রয়ে গেছে। এলসিডি প্যানেলও কিছু সময় এই বার্ণ ইন সমস্যায় ভুগে থাকে তবে সেটি অতি সামান্য এবং এই সমস্যা কিছু সময় পরে অটোমেটিকালি ঠিক হয়ে যায়।

আপনি যখন কোনো একটি স্থির চিত্র অনেক সময় ধরে স্ক্রিনে রেখে দিবেন তখন স্ক্রিন বার্নের আশংকা থাকবে। এজন্য এসকল সমস্যা মূলত টেলিভিশনে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে আপনি যদি কোনো নিউজ চ্যানেল কিংবা স্পোর্টস চ্যানেল চালিয়ে অনেক সময় রেখে দেন তখন এটি হয়ে থাকে। কেননা এসকল চ্যানেলে কিছু নির্দিষ্ট লোগো বা গ্রাফিক্স অনেক সময় ধরে এক জায়গায় অবস্থান করে। এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য নতুন টিভিগুলোতে স্ক্রিন সেভার টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। যেহেতু বর্তমানে কেউ কোনো একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ বেশ কয়েক ঘন্টা অথবা দিন ধরে চালিয়ে রাখে না তাই এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ফোন বা ট্যাবলেটে অনেক কম। তবে একদমই যে হবে না তা বলা সম্ভব না।

কোন ধরনের অ্যাপল কিংবা এন্ড্রয়েড ডিভাইসে স্ক্রিন বার্ন হতে পারে?

আমরা আগেই বলেছি যে এলসিডি স্ক্রিনে স্ক্রিন বার্ন হবার মতো আশংকা খুব কম থাকে যদি কি না আপনি স্ক্রিন ড্যামেজ করার আপ্রাণ চেষ্টা না করে থাকেন। এর অর্থ এই যে বর্তমান সময়ের স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের মধ্যে যেগুলো ওলেড বেজড টেকনোলজি এবং এমোলেড টেকনোলজি ব্যবহার করে থাকে সেগুলোতে স্ক্রিন বার্ন হবার আশংকা থাকে। 

অ্যাপল ২০১৭ সালে রিলিজ হওয়া তাদের আইফোন টেন মডেলের পর থেকে প্রায় সব স্মার্টফোনেই ওলেড প্যানেলে সুইচ করা শুরু করে। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলো শুধু আইফোন এসই/এক্সআর মডেলগুলো। এই মডেলে অ্যাপল এলসিডি স্ক্রিন ব্যবহার করেছে। তবে প্রায় সকল আইপ্যাডই স্ক্রিন বার্নের ঝুঁকি থেকে মুক্ত কেননা বেশিরভাগ আইপ্যাডেই এলসিডি স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম হিসেবে ২০২১ এবং তার পরে রিলিজ হওয়া ১২.৯ ইঞ্চি আইপ্যাড প্রো ডিভাইসে মিনি এলইডি টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে যেটিতেও স্ক্রিন বার্ণ হবার সম্ভাবনা কম।

এন্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে অনেক স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট ওলেড টেকনোলজিতে শিফট করেছে। উদাহরণস্বরূপ স্যামসাং তাদের ট্যাবলেট ডিভাইসগুলোতে ২০১৪ সালের পর থেকেই ওলেড স্ক্রিন ব্যবহার করছে এবং স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় ধরে এটি লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া আপনি হাইয়ার এন্ডের ডিভাইসগুলোর মধ্যে ওলেড ডিসপ্লে ব্যবহার হয় নাই এমন খুঁজে পাবেন কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। 👉 আইফোন দ্রুত চার্জ দেয়ার উপায় ও দরকারি সরঞ্জাম

স্ক্রিন বার্ণ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

সৌভাগ্যক্রমে বেশিরভাগ ওলেড প্যানেলে স্ক্রিন বার্ণের মত যেটি দেখা যায় সেটি স্ক্রিন বার্ণের পরিবর্তে ইমেজ রিটেনশন দেখা দেয়। আপনি যখন অন্য কোনো কনটেন্ট দেখবেন তখন এটি অল্প কিছু সময় পর চলে যাবে। তবে এই ইমেজ রিটেনশন বার বার হতে থাকলে এটি চিরস্থায়ী স্ক্রিন বার্ণ হয়ে যেতে পারে। তবে আপনি যদি রেগুলার বেসিসে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এটি হবার আগে আপনি অনেকগুলো এডভান্স ওয়ার্নিং পেয়ে যাবেন। 

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

phone screen

ডিভাইস শাট ডাউন করা 

যেহেতু ইমেজ রিটেনশন ওলেড পিক্সেলের জন্য একটি ক্ষণস্থায়ী অবস্থা তাই সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনার ফোনকে বন্ধ করে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা। আপনার আইফোনে যদি অলওয়েজ অন ডিসপ্লে থাকে তাহলে আপনাকে আপনার আইফোনকে পুরাপুরি শাট ডাউন করতে হবে। যদি অলওয়েজ অন ডিসপ্লে না থাকে তাহলে এক বা দুই ঘন্টার জন্য স্ক্রিন বন্ধ করে রাখলে সময়ের সাথে সাথে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু অলওয়েজ অন ডিসপ্লে দেওয়া থাকলে ওভারনাইট পাওয়ার অফ করে কিংবা কিছু ঘন্টার জন্য অলওয়েজ অন ডিসপ্লে বন্ধ করে রেখে দিন।

👉 মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শেখার দারুণ কিছু উপায়

স্ক্রিন ব্রাইটনেস কম করা

যেহেতু ওলেড স্ক্রিনে ইমেজ রিটেনশন এবং স্ক্রিন বার্ন উভয়ই পিক্সেল অনেক গরম হবার জন্য হয়ে থাকে তাই ব্রাইটনেস কমিয়ে ব্যবহার করলে অনেক বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ অনেক বেশি সময় ধরে ব্যবহার যেমন রোড ট্রিপে ন্যাভিগেড করার জন্য ম্যাপের ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। আইফোনে আপনি আপনার স্ক্রিন ব্রাইটনেস সম্পর্কিত সকল কিছু সেটিংস অ্যাপের মধ্যে থাকা ডিসপ্লে এন্ড ব্রাইটনেস সিলেক্ট করে সম্পন্ন করতে পারবেন। আপনি এখানে অটোমেটিক ব্রাইটনেস অপশন এনাবেল করতে পারবেন যার মাধ্যমে আপনার যখন ব্রাইটনেসের প্রয়োজন পড়বে না তখন সেটি অটোমেটিকালি কমে যাবে। এছাড়া ট্রু টোন এবং নাইট শিফট সেটিংস ব্যবহার করে ইমেজ রিটেনশন এবং স্ক্রিন বার্ন ইন জনিত সমস্যা থেকে সুরক্ষা করতে পারে।

ইমেজ রিটেনশন এবং স্ক্রিন বার্নকে মূলত ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট হিসেবে না ধরে ওলেড ডিসপ্লে এর বিহ্যাভিয়ার হিসেবে চিন্তা করা হয়। সে কারণে এই সমস্যা আপনার ওয়ারেন্টির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে না। তাই স্মার্টফোন চালানোর ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে সবার সতর্ক হওয়া উচিত। স্মার্টফোনের স্ক্রিন বার্ন সম্পর্কে আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লেগেছে তা আমাদের কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারবেন। এছাড়াও নিত্য নতুন টেকনোলজি বিষয়ক নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সকল টিপস এন্ড ট্রিকস পেতে চোখ রাখুন আমাদের এই ওয়েবসাইটে। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button