TechTricks

সাবলীলভাবে ব্লগ লেখা নিয়ে কিছু কথা

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। যারা ব্লগ লেখা নিয়ে আগ্রহী, এই লেখাটি তাদের জন্য। এখানে যেভাবে বলবো আমি, তা আমার নিজের কথা। অন্য কেউ বললে হয়ত অনেক দিকেই আমার সাথে চিন্তার ভিন্নতা থাকবে।

ব্লগ হলো নিজেকে প্রকাশের একটি মাধ্যম। সংবাদ কিংবা প্রবন্ধ থেকে ব্লগের বড় পার্থক্য হলো ব্লগ সাধারণত ইনফর্মালভাবে লেখা হয় এবং লেখকের মতামত ও চিন্তাধারা এখানে উঠে আসে। ব্লগের লেখার ধরণ কিছুটা ডায়েরি লেখার মত, তবে তা অনলাইনে সবার পড়ার জন্য উন্মুক্ত এবং এর পরিধি বিস্তৃত।

ব্লগ লেখার সুন্দর দিকটি হলো এখানে কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। সংবাদপত্রের মত ফর্মাল বা অফিসিয়াল ভাষায় লেখা হবে না, বরং উপস্থাপনা হবে সাবলীল ও প্রাণবন্ত। নিজেকে প্রকাশ ও সৃজনশীলতা চর্চার জন্য ব্লগ একটা চমৎকার জায়গা।

কপি করে, অনুবাদ করে কিংবা এখন এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্লগ লেখা সম্ভব। কিন্তু সত্যি বলতে এভাবে ব্লগের উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হয়, তা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ ব্লগের সার্থকতা হলো নিজের মন থেকে, নিজের মত করে লেখাতে।

ব্লগ নিজের ভালো লাগা ও আগ্রহের জায়গাতে লেখা উচিৎ। এটা নিজের কোন অভিজ্ঞতা, ঘটনা বা চিন্তা নিয়ে হতে পারে, অথবা কোন বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক হতে পারে।

লেখার পূর্বে অবশ্যই লেখার বিষয়ে জানতে হবে। এজন্য অফলাইন অথবা অনলাইন বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। জানতে হবে বলতে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে এরকম না, যতটুকু জানা আছে, ব্লগে ততটুকুই লেখা যেতে পারে। কোন বিষয় নিয়ে সবকিছু ব্লগে সবিস্তারে আসতে হবে এমন না- কিন্তু যা জানা নেই, সে জায়গাতে মতামত না দেয়া-ই কাম্য।

যেকোন কিছু উন্নতির জন্য পরিচর্যা প্রয়োজন। প্রথমদিকে লেখাতে হয়ত কিছুটা জড়তা থাকবে, মনমত হবে না। শুরুর দিকে অন্যদের উপস্থাপনা থেকে কিছুটা সাহায্য নেয়া যেতে পারে। আস্তে আস্তে নিজের একটা স্টাইল তৈরি হয়ে যাবে।

লেখাকে লেখার মত ফ্লো হতে দেয়া উচিৎ। জোর করে কিছু অপ্রাসঙ্গিক কৌতুক নিয়ে আসার চেষ্টা করা, স্ট্রিক্ট স্ট্রাকচার ফলো করতে চাওয়া প্রভৃতি এই ফ্লো ব্যহত করতে পারে। এই বিষয়গুলো ন্যাচারাল রাখার চেষ্টা করা উচিৎ।

লিঙ্ক, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা কাম্য। মধ্যমপন্থা বলতে যতটুকু প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিক, ততটুকু। ছবির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সাইজ ২০০ কিলোবাইটের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা ভালো, হায়ার রেজ্যুলেশনের ক্ষেত্রে স্লো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য লোডিং স্পিডে প্রভাব পড়বে।

লেখার ফরমেটিং একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ লেখা পড়ার সুবিধার্থে একাধিক হেডিং ও সাবহেডিংয়ের অধীনে লেখা ভালো। বিশেষ করে টিউটোরিয়াল, ওভারভিউ এধরণের লেখাতে সেকশন অনুযায়ী স্ট্রাকচার্ড লেখা হেল্পফুল। তবে যেমনটা বললাম, যেখানে সেকশনের বিভাজন স্পষ্ট না, সেখানে এমনটা করতে গেলে তা আর্টিফিশিয়াল দেখাবে এবং পড়ার ফ্লো ব্যহত করবে।

প্যারাগ্রাফের বিভাজন বেশ প্রয়োজনীয়। একটানা লেখা হলে পড়া বেশ মুশকিল। এক্ষেত্রে তিন-চারটি বাক্যের মধ্যে প্যারাগ্রাফ সীমিত রাখতে পছন্দ করি আমি। এটা প্রয়োজন অনুযায়ী, যেখানে একটু ভিন্নতা আসছে আলোচনায়।

লেখায় বোল্ড, ইটালিক, কালার প্রভৃতি হাইলাইটিং প্রয়োজন অনুযায়ী করা যেতে পারে। যেমন একটা লেখায় গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে ভিন্ন কালার বা ফরমেটিং করা যেতে পারে। কিন্তু অনেক বেশি কালার, ফন্ট সাইজের ভ্যারিয়েশন এধরণের ফ্যান্সি স্টাইলিং সাধারণত ভালো দেখায় না। যাইহোক, কেউ যদি ডিজাইন সেন্স ও ডিজাইন সাইকোলজি নিয়ে ভালো ধারণা রাখে এবং সে অনুযায়ী যথাযথভাবে স্টাইলিং মেইনটেন করতে পারে সেটা অন্য বিষয়। সাধারণভাবে, বাড়তি স্টাইলিং পরিহার্য।

লেখার পরিসরের বেলায় বড় লেখা মানেই ভালো লেখা নয়। ব্লগ সাধারণত একদম সংক্ষিপ্ত হবে না, একটু বিবরণ থাকবে। তবে অযথা বাড়তি কথা, অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এধরণের বিষয়গুলো পাঠকের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখার চেষ্টা করতে হবে। আমি কিন্তু তাই বলে যান্ত্রিকভাবে মূল কথার সারমর্ম লিখতে বলছি না, শুধু অকারণ দীর্ঘায়ন পরিহার করতে বলছি।

টাইটেল ও ফিচার ছবি এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটো বিষয়। কেউ ব্লগটি পড়তে আগ্রহী হবে কিনা, এটা প্রাথমিকভাবে কিন্তু টাইটেল ও ফিচার ছবির ওপরই নির্ভর করছে। এজন্য বহুজন প্রতারণাপূর্ণ ক্লিকবেইট টাইটেল ও থাম্বনেইলের আশ্রয় নেয়। এটা একচুয়ালি কাজ করে, অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই বেশি ভিউ এনে দেয়। কিন্তু এভাবে বেশি ভিউ পাওয়াতে আমি কোন সার্থকতা দেখিনা, যদি আমার লেখা পড়ার পর মানুষের আমাকে খারাপ কিছু বলতে ইচ্ছা হয়।

টাইটেল ও ফিচার ছবি প্রাসঙ্গিক থাকবে। আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা দোষণীয় নয়, তবে প্রতারণাপূর্ণ করা অবশ্যই অপরাধ। টাইটেল এমন হবে যা লেখার মূল বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। খুব দীর্ঘ নয়, তবে প্রয়োজনে একটু দীর্ঘ করতে সমস্যা নেই। ফিচার ছবির বেলাতেও একই কথা। পোস্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। খুব ফ্যান্সি হবে না। টেক্সট ও কালার এমন হতে হবে যেন চোখে না লাগে, পড়া সহজ হয়।

তো এখনকার মত এটুকুই। আসসালামু আলাইকুম।

একটি GR+ BD পরিবেশনা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button