Tech

গুগল ফটোসের যে ৯টি ফিচার আপনার ব্যবহার করা উচিত

গুগল ফটোস নিঃসন্দেহে গুগলের বেশ উপকারী একটি সেবা। গুগল ফটোস আপনার জীবনকে সহজ করতে সুবিধাজনক সব ফিচার দিয়ে পরিপূর্ণ রয়েছে। আমরা সাধারণত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দিনের স্মৃতি ছবি কিংবা ভিডিও আকারে গুগল ফটোস এর মধ্যে সেভ করে রাখি। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা গুগল ফটো অ্যাপের সঠিক সুবিধা আদায় করে নিতে পারি না। কেননা গুগল ফটোসে অনেক ফিচার রয়েছে যা আমাদের কল্পনার বাইরে। এ কারণেই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা গুগল ফটোসের সেরা কিছু ফিচার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

অটোমেটিকালি ছবি শেয়ার করা 

ছবি তোলার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সেটি শেয়ার করা। তাই ছবি শেয়ার করার জন্য যত সহজ উপায় আমরা পাব তত বেশি উপকৃত হবো। পার্টনার শেয়ারিং ফিচারের অংশ হিসেবে গুগল ফটোজ এর মাধ্যমে অটোমেটিক ভাবে নির্দিষ্ট কোনো ছবি শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। আপনি যেকোনো ব্যক্তির ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কারো সাথে শেয়ার করার অপশন বেছে নিতে পারবেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আপনি আপনার সন্তানের তোলা যেকোনো ছবি খুব সহজেই আপনার সঙ্গীর সাথে শেয়ার করতে পারবেন। গুগল ফটোস আপনার ছবি থেকে মানুষের মুখ মন্ডল যাচাই করে এই কাজটি আপনার জন্য সহজেই করে দেয়। গুগল ফটোস অ্যাপের মধ্যে থাকা Sharing অপশন থেকে ফিচারটি চালু করে নিতে পারেন।

ব্যাকআপ কোয়ালিটি নির্ধারণ করা

গুগল ফটোস আপনার যেকোনো ধরনের ছবি ব্যাকআপ করার ক্ষেত্রে অনেক ভালো একটি অপশন হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে আপনি এ জন্য আনলিমিটেড স্টোরেজ সুবিধা পাবেন না। সেই কারণে গুগলের দেয়া স্টোরেজ খরচ করার জন্য আপনার ছবির ব্যাকআপ কোয়ালিটি সামঞ্জস্য করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই দুইটি আপলোড সাইজ অপশন রয়েছে। যার মধ্যে অরজিনাল কোয়ালিটি আপনাকে সেরা কোয়ালিটি প্রদান করে যেখানে স্টোরেজ সেভার অথবা হাই কোয়ালিটি আপনার ছবিকে ১৬ মেগাপিক্সেলে এবং ভিডিও কে ১০৮০ পিক্সেলে কম্প্রেস করে দেয়। এখান থেকে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো একটি নির্বাচন করতে পারেন।

সেনসিটিভ ছবিগুলো লকড ফোল্ডারে রাখা 

আপনার কাছে সব সময় একটি ক্যামেরা থাকা খুব ভালো একটি অপশন কেননা এর মাধ্যমে আপনি আপনার কাছে সকল ছবি গুলো রাখতে পারেন। তবে এমনও কিছু ছবি বা ভিডিও থাকতে পারে যেগুলো আপনি লুকিয়ে রাখতে চান। এই ক্ষেত্রে গুগল ফটোসের লক ফোল্ডার খুব ভালো কাজ করে থাকে। গুগল ফটোস অ্যাপ এর মধ্যে থাকা এই লকড ফোল্ডার একটি বিশেষ ধরনের ফোল্ডার যেখানে আপনি আপনার স্ক্রিন লক এর মাধ্যমে এটি কে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। লক ফোল্ডারে থাকা লুকানো ছবিগুলি আলাদা থাকবে এবং সাধারণ ফটো গ্রিডে প্রদর্শিত হবেনা। গুগল ফটোস অ্যাপের লাইব্রেরি > ইউটিলিটিস সেকশনে লকড ফোল্ডার অপশন পাবেন।

মেমোরিস থেকে মানুষদের সরানো

গুগল ফটোজের মেমোরি ফিচার এর মাধ্যমে আপনি আপনার পুরনো ছবি কিংবা ভিডিও পুনরায় রিসার্ফেস হওয়া দেখতে পারবেন। তবে আপনি চাইলে আপনার মেমোরি থেকে কোন নির্দিষ্ট মানুষ, পোষা প্রাণী এমনকি নির্দিষ্ট একটি দিনকেও বাদ দিতে পারবেন। গুগল ফটোস গুগলের ফেস ডিটেকশন ফিচার ব্যবহার করে থাকে যার মাধ্যমে তারা যে কোন ছবি থেকে আপনি বাদ দিতে চান এমন কাউকে খুজে পেলে তাকে আর মেমোরিতে দেখাবে না। আপনার গুগল ফটোস অ্যাপের মধ্যে থাকা নিজের প্রোফাইল অপশনে গিয়ে Photo Settings > Memories > Hide people and pets অপশনে গিয়ে ফিচারটি চালু করা যাবে।

অটোমেটিক ভাবে কোন একটি অ্যালবামে ছবি সংযুক্ত করা

খুবই সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অ্যালবাম একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। তবে নতুন ছবি কিংবা ভিডিওকে বারবার কোন একটি অ্যালবামে যোগ করা অনেক সময় খুব কষ্টসাধ্য হতে পারে। এ সকল ক্ষেত্রে গুগল ফটোস আপনাকে অনেক সহায়তা করে থাকে। গুগল ফটোস এর লাইভ অ্যালবাম একটি বিশেষ ধরনের এলবাম যেখানে গুগল এর ফেস ডিটেকশন ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি নির্দিষ্ট কোন মানুষ কিংবা পোষা প্রাণীকে নির্বাচন করে দিলে গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে সকল মানুষ বা পোষা প্রাণীদের ছবি নির্দিষ্ট ফোল্ডারে সেভ করে রাখবে।

আপনার ছবিগুলো স্লাইড শো এর মতো দেখানো

আপনার কোন মেমোরি শেয়ার করার ক্ষেত্রে ছবি শেয়ার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে থাকে। তবে এক্ষেত্রে অনেক বড় এ্যালবাম থেকে সোয়াইপ করে করে আলাদা আলাদা ভাবে ছবি দেখানো বেশ কষ্টসাধ্য। সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে গুগল ফটোজের স্লাইড শো ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। স্লাইড শো অপশনটি গুগল ফটোজ এর মোবাইল অ্যাপ এবং ডেস্কটপ এর ওয়েব সাইটে এভেইলেবল রয়েছে। আপনি চাইলে ক্যামেরা রোল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ফোল্ডার, যে কোনো জায়গা থেকেই এই স্লাইড শো চালু করতে পারবেন। 👉 গুগল ফটো ও অ্যাপল ফটোতে ডুপ্লিকেট ছবি খুঁজে ডিলিট করার কৌশল

google photos tips

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

আই এম ফিলিং লাকি সম্বলিত ছবি ফিরে দেখা

আপনার গুগল ফটোস লাইব্রেরীতে যদি অনেকগুলো ছবি থাকে তাহলে পুরনো ছবি সম্পর্কে ভুলে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে আই এম ফিলিং লাকি বাটন এর মাধ্যমে আপনি খুব মজার ছলে সে সকল ছবিগুলো ফিরে দেখতে পারবেন। আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় অ্যাপে এই আই এম ফিলিং লাকি বাটনটি রয়েছে এবং এগুলো হোমস্ক্রিন শর্টকাট এর মাধ্যমে এক্সেস করা সম্ভব। এটি আপনাকে কোন একটি নির্দিষ্ট থিমের উপর ভিত্তি করে ছবি এবং ভিডিওগুলো সামনে নিয়ে আসবে। যেমন ধরুন আপনি কোন একটি খেলার সম্পর্কে কিংবা কোন জায়গার সম্পর্কে খুঁজলে সে সকল বিষয়ের ছবিগুলো আপনার সামনে চলে আসবে।

সম্পূর্ণ এলবাম ডাউনলোড করা 

গুগল ফটোস ছবি এবং ভিডিও ক্লাউডে স্টোর করে রাখার জন্য ভালো একটি বিকল্প। তবে আপনার সকল ব্যাকআপ এক জায়গাতে করে রাখা উচিত নয়। আপনার অল্প কিছু সময় পর পর গুগল ফটোজের অ্যালবাম গুলির লোকাল ব্যাকআপ তৈরি করে রাখা ভাল। এক্ষেত্রে সবচেয়ে খুশির সংবাদ হলো গুগল আপনার জন্য এই কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছে। যেকোনো ওয়েব ব্রাউজারে শুধুমাত্র গুগল ফটোজ ভিজিট করে একটি অ্যালবাম চালু করুন। সেখানে থাকা মেনু অপশন থেকে ডাউনলোড অল নির্বাচন করে নিন। এর ফলে আপনি একটি জিপ ফাইল পেয়ে যাবেন যার মধ্যে সকল ধরনের কনটেন্ট ডাউনলোড হওয়া থাকবে। 👉 জিমেইলের স্টোরেজ ফাঁকা করার সহজ কিছু উপায়

স্টোরেজের জায়গা ফাঁকা করা

আগেই বলা হয়েছে যে গুগল ফটোস আনলিমিটেড ফ্রি স্টোরেজ অফার করে না। ব্যাকআপ কোয়ালিটি সামঞ্জস্য করা স্টোরেজ বাঁচানোর জন্য একটি অপশন হিসেবে কাজ করে। তবে আরও একটি উপায় হল বিল্ট ইন স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করা। এই স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করে আপনি দেখতে পারবেন আপনার কোন ধরনের জিনিস এ বেশি জায়গা খরচ হচ্ছে। এটি আপনার মিডিয়া সাইজ, স্ক্রিনশট, ঘোলাটে ছবি এবং আরো অনেক উপায়ে মিডিয়া সাজিয়ে রাখে। যার ফলে আপনাকে স্টোরেজ ফাঁকা করার জন্য অনেক গুলো ছবির মধ্যে আলাদা করে যাচাই করার প্রয়োজন হয় না। 

গুগল ফটোস একটি দুর্দান্ত সেবা। আপনি যদি আপনার যে কোন ছবির প্রয়োজনে গুগল ফটোস ব্যবহার করে থাকেন তাহলে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি এর থেকে সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন কিনা। এই ক্ষেত্রে আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে বলে আশা করি। গুগল ফটোজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় ফিচার সম্পর্কিত আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিন।

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button