TechTricks

দেশের সেরা স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট এবং সাথে থাকছে মাল্টি কারেন্সি কার্ড তাও ফ্রীতে

আসসালামু আলাইকুম ট্রিক বিডিবাসী কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভাল আছেন.
আজকে আমি আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি বাংলাদেশের সব থেকে উন্নত এবং বেশী সুবিধা পাওয়া স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সিস্টেম। আর এই সুন্দর সুযোগটি দিয়ে থাকে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
আজকের এই পোস্টে ৫ টি ধাপের মাধ্যমে আমি সম্পূর্ণ ব্যাংকিং সার্ভিসটি কিভাবে আপনারা গ্রহণ করবেন এবং কারা গ্রহণ করতে পারবেন সেটি জানাবো।

ধাপ-১ঃকারা এই একাউন্টের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন-
যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং তারা রানিং স্টুডেন্ট। শুধুমাত্র তারাই এই অ্যাকাউন্টের সুবিধা গুলো ভোগ করতে পারবেন।।

ধাপ-২ঃ ব্র্যাক ব্যাংকের এই স্টুডেন্ট একাউন্টে কি কি সুবিধা পাবেন-
১. ব্যালেন্সে থাকা যেকোনো স্থায়ী এমাউন্টের উপর আগামী সেবারস একাউন্টের জন্য প্রতি মাসে ৩% এবং তারা আগামী সেভারস একাউন্টের জন্য  ৩.৫%  লাভ যোগ হবে।

২. এই একাউন্টের সাথে আপনি মাল্টি কারেন্সি একটি ডেবিট কার্ড পাবেন যেটি দিয়ে আপনি দেশে এবং দেশের বাইরে(ডলার ইন্ডোর্সমেন্ট করার পরে) সকল জায়গায় পেমেন্ট করতে পারবেন। আর মাল্টি কারেন্সি কথার অর্থ হচ্ছে যদি আপনি পাসপোর্ট এর মাধ্যমে ডলার ইনডোর্সমেন্ট করেন তো সে ক্ষেত্রে আপনি যে দেশে যাবেন সেই দেশের স্থানীয় কারেন্সি হিসাবে টাকা উত্তোলন এবং অন্যান্য সেবা পাবেন।

৩. একাউন্ট খোলার পরবর্তীতে যদি আপনি চেক বইয়ের জন্য আবেদন করেন তো সে ক্ষেত্রে আপনি প্রথমে পাঁচ পাতার একটি ফ্রিতে চেক বই পাবেন। তবে পরবর্তী চেক বইয়ের জন্য আপনাকে বাড়তি খরচ দিতে হবে।

৪. আর এই অ্যাকাউন্ট খুলতে মাত্র ২৫০ টাকা ডিপোজিট করতে হবে তবে পরবর্তীতে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

৫. ব্র্যাক ব্যাংকের অন্যতম সেরা সুবিধা হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা অ্যাপ, যা আপনি গুগল প্লে এবং অ্যাপেল স্টোরে পেয়ে যাবেন। চমৎকার লাগে এই অ্যাপের কাস্টমাইজেশন।

৬. এই অ্যাকাউন্ট খোলার পরবর্তীতে আপনি ব্র্যাক ব্যাংকের থেকে পাবেন বিখ্যাত দামী দামী কিছু লাইফস্টাইল এবং দোকানের ভাউচার যা দিয়ে আপনি পরবর্তীতে ডিসকাউন্টে শপিং বা অন্যান্য কিছু কিনতে পারবেন। ভাউচার পার্টনার গুলো হলোঃ

  • Apple Gadget BD
  • Gadget & Gear
  • Boionline
  • Tha Mall
  • Freeland
  • The Reading Cafe
  • Pickaboo
  • The Fitness Inside
  • Wander Women
  • B Travellers

৭. প্রতি ই-কমার্স ট্রানজেকশন আপনি পেয়ে যাবেন রেওয়ার্ড পয়েন্ট যা দিয়ে পরবর্তীতে আপনি টাকাতে রূপান্তর করতে পারবেন। তবে প্রতি বৃহস্পতিবারে পাবেন ডাবল রিওয়ার্ড পয়েন্ট।

৮. আর এতক্ষণ যাবৎ যতগুলো সুবিধার কথা বললাম সবগুলো আপনার ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত একদম ফ্রি। মানে না আছে কোন কার্ড বিল না আছে কোনো মেইন্টেইন্যান্স ফি। আপনার ১৮ বছর বয়স থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ২৫ বছর পরবর্তীতে আপনার একাউন্টটি সেভিংস একাউন্টে অটোমেটিক ট্রান্সফার করে দেবে ব্র্যাক ব্যাংক। 

ধাপ-৩ঃএকাউন্ট করতে কি কি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হবে-
১. এন আইডি/জন্ম সনদ/পাসপোর্ট 
২. একটি স্টুডেন্ট আইডি কার্ড (বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে ভর্তি পে-স্লিপ ও দেখাতে পারবেন।) 
৩. আয়ের উৎস( কেউ যদি অন্য কাজের মাধ্যমে আয় করে থাকেন তো ভালো, তবে যারা করেন না শুধুই ছাত্র/ছাত্রী তারা বলবেন টিউশনির মাধ্যমে ইনকাম করি, যেইটার কোনো ডকুমেন্ট নাই)।
৪. নমিনির এক কপি ছবি এবং ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি। 
৫. আপনার নিজের এক কপি ছবি।
৬. যেকোনো বিলের কাগজ(যদি চায়)

ধাপ-৪: এই একাউন্টের কি কি অসুবিধা –
১. এত সুবিধার মধ্যে কিছু অসুবিধেও আমি এখানে উল্লেখ করতেছি. তার কারণ হচ্ছে এই অ্যাকাউন্ট আপনি একদিনে খুলতে পারবেন না। এখন দুই ভাবে খোলা যায় যদি আপনি ঘরে বসে অ্যাপ এর মাধ্যমে খুলবেন সেক্ষেত্রে ওরা অ্যাপ্রুভ করবে তারপর পরবর্তীতে আপনি পরবর্তী কার্যক্রম গুলো করতে পারবেন।

২. আর যদি কোন ব্রাঞ্চের নিকট করেন সে ক্ষেত্রেও আপ্রুভ করতে হবে এবং এটা ২৪ ঘন্টা বা ৭২ ঘণ্টা সময় নেয়।

৩. যেহেতু স্টুডেন্ট একাউন্ট সে ক্ষেত্রে আপনি যদি পাসপোর্ট এর মাধ্যমে ডলার ইনডোর্সমেন্ট করতে যান তাহলে আপনাকে মাত্র  ক্যালেন্ডারের একবছর সময়ের জন্য  ডলার ইন্ডোর্সমেন্ট করে দিবে।

৪. আপনার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় উল্লিখিত দেওয়া ঠিকানায় ব্যাংক তাদের নিজেদের লোক পাঠাবে আপনার ঠিকানা ভেরিফাই করার জন্য তো সে ক্ষেত্রে আপনি যদি বাসায় না থাকেন, অনেক সময় তারা না এসেও ঠিকানা ভুল বলে দেয়। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এই সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হয় কারণ এইটা না হলে আপনার অ্যাকাউন্ট  চালু হয় না।

যদিও এক এবং দুই নাম্বার পয়েন্ট আমি সেভাবে সমস্যা মনে করি না, কারণ ২৫ বছর পর্যন্ত আপনাকে ব্যাংকিং সার্ভিস দিবে তাও একদম ফ্রি একটু তো ভেরিফাই করবেই যে আপনি আসলেই ছাত্র বা ছাত্রী কিনা।

ধাপ-৫ঃ এখন বলব কিভাবে একাউন্ট করবেনঃ
আমি প্রথমেই বলব আপনি যেকোনো ব্র্যাক ব্যাংকের ব্রাঞ্চ এ গিয়ে বলেন আমি একটি ছেলে হলে আগামী সেবার অ্যাকাউন্ট এবং মেয়ে হলে তারা আগামী অ্যাকাউন্ট খুলতে চাই। আশা করি তারা সাহায্য করবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য এবং পরিপূর্ণভাবে আপনার অ্যাকাউন্ট খুলে দেবে। 
তারপরেও তারপরেও যদি আপনি ঘরে বসে একাউন্ট করতে চান সেক্ষেত্রে Brac Astha এপ এর মাধ্যমে একাউন্ট করতে পারবেন তবে তবে অনেক সতর্কতার সাথে করতে হবে। কারণ আপনি কোন তথ্য ভুল দেন সে ক্ষেত্রে কোনভাবেই আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হবে না।
App Link : Brac Bank Astha App Download

এপ টি ওপেন করার পর এরকম আসবে, সেখানে থেকে নিচের Open a Bank Account  এ ক্লিক করুন:


তারপরে গুগল ক্রমে নিয়ে যাবে, সেখানে আবেদন করুন এ ক্লিক করুন:

তারপরে ছবির দেখানো মতো ব্রাঞ্চ থেকে খুললে সেটা ক্লিক দিবেন আর রিটেইল ব্যাংকিং এ ওকে দিবেন:

তারপরে যে মোবাইল নাম্বার দিবেন সেইটায় একটা OTP আসবে তারপরে , একাউন্ট খোলার মূল পেজে নিয়ে যাবে।


আমি দুঃখিত আর প্রসেস দেখাতে পারছি না, আমার একাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে আগেই। আপনি সব পড়ে নিজেই পারবেন, যদি কোথাও আটকে যান Youtube এ বেশ কয়েকজনের ভিডিও আছে,  কষ্ট করে দেখে নিয়েন।
কিন্তু বার বার, বলছি এপ এ খোলার থেকে যেকোনো ব্রাঞ্চ থেকে খুলবেন,  দ্রুত হবে এবং নির্ভূলতার সাথে একাউন্ট করে দিবে। 
মজার একটা ব্যাপার হলো এই একাউন্টের সাথে যে কার্ডটি পাবেন, সেটা আপনার ঐ ভেরিফাই করা ঠিকানায় কুরিয়ার সার্ভিসের এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবে।

তো আজকের মতো এই পর্যন্তই। আবার হাজির হবো অন্য কোনো বিষয় নিয়ে ইনশাআল্লাহ ✌️
ট্রিক বিডি এর নিয়ম অনুযায়ী,  পোস্টের একদম শেষে নিজের ২/১ টা লিংক শেয়ার করা যায়। তো আমার একটা টেলিগ্রাম গ্রুপ আছে, যেখানে আপনারা বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সুলভ মূল্যে কিনতে পারবেন এবং অনেক ফ্রী অফার পাবেন।
Join My Telegram Group

আপত্তি না থাকলে জয়েন হতে পারেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ এতসময় পোস্ট টি পড়ার জন্য। ভূল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button