News

ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ সাময়িক বরখাস্ত

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মুরাদ হোসেন সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টির অধিকতর তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তদন্ত কমিটিতে কারা আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো কমিটি গঠন করা হয়নি। শিগগির এ কমিটি গঠন করা হবে।’

গত শনিবার ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে আজিমপুর ক্যাম্পাসের দিবা শাখার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকারকে প্রত্যাহার করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুরাদ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। এরই মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় মুরাদ হোসেন সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর ক্যাম্পাসের ফটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা বেলা ৩টার দিকে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা দেয়। বিকেলে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন অভিভাবক।

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলে, অভিযুক্ত শিক্ষকের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। তারা এই শিক্ষককে তাদের স্কুলে দেখতে চায় না।

বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক দফায় ছাত্রীদের কাছে যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী ও অন্য শিক্ষকেরা। তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে সময় চান।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাহার নয় বরখাস্ত চাই, মুরাদ হোসেনের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ স্কুল চাই, মুরাদ হোসেনের শাস্তি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিআর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button