News

বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে আইনজীবীর সহকারীর মৃত্যু

বগুড়ায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে হাবিবুর রহমান (৩৫) নামের এক আইনজীবীর সহকারীর (মুহুরি) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাবিবুর রহমান বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার জোড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বাবলুর ছেলে। তিনি বগুড়া বার সমিতির সিনিয়র সদস্য মঞ্জুরুল হকের সহকারী ছিলেন। হাবিবুরের স্বজন ও সহকর্মীদের অভিযোগ, ডিবি পুলিশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের সামনে থেকে জেলা ডিবি পুলিশ হাবিবুরকে আটক করে। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের নেয়া হয়।

হাবিবুর রহমানের সহকর্মী এবং বগুড়া জেলা আইনজীবীর সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, আজ কোর্ট শেষে বিকেলে ডিবি পুলিশ কোনো পরোয়ানা ছাড়াই তাকে কোর্ট চত্বর থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতে হাসপাতালে আমরা তাকে মৃত পাই। ডিবি পুলিশ তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।

হাবিবুরের মামা আব্দুল হান্নান মুকুল এবং ছোট ভাই আল-আমিন একই অভিযোগ তোলেন।

বগুড়া ডিবি পুলিশ কার্যালয় সূত্র জানান, ১০ বছর আগে শাজাহানপুর উপজেলার জোড়া গ্রামে বিপুল নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল। হাবিবুর রহমান ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। নিহত কিশোরের সৎ মা খুকি বেগম ওই হত্যা মামলায় অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। কিন্তু সাক্ষ্য দেয়া জন্য আদালতের ধার্য তারিখের আগেই ২ আগস্ট খুকি বেগমকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর ৪ আগস্ট খুকির একটি পা বিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর মঙ্গলবার মনোয়ারা বেগম নামে প্রতিবেশী এক নারীর বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে খুকি বেগমের খণ্ডিত পা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনোয়ারা বেগমকে আটক করা হলে তিনি খুকিকে হত্যায় হাবিবের জড়িত থাকার তথ্য দিয়ে জানান, তার সামনেই হাবিবসহ কয়েকজন খুকিকে হত্যা করে। মনোয়ারা বেগমের দেয়া তথ্যানুযায়ী হাবিবকে মঙ্গলবার বিকেলে আটক করা হয়। পরে ডিবি অফিসে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী মনোয়ারা বেগমের মুখোমুখি করা হলে হাবিবুর বুকে ব্যথার কথা বলেন। পরে তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বগুড়া বার সমিতির সিনিয়র সদস্য মঞ্জুরুল হক জানান, হাবিবুর তার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিকেল ৫টার দিকে তিনি তার সহকর্মী রাকিবুলকে নিয়ে আদালত থেকে বের হয়ে যান। ফটক দিয়ে বের হওয়ার পর পরই একদল লোক তাদের গতিরোধ করে এবং হাবিবুর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়। পরে খোঁজ করে জানতে পারি যারা হাবিবুরকে তুলে নিয়ে গেছেন তারা ডিবির সদস্য। এরপর রাত ৯টার দিকে খবর আসে আমার ভাগ্নে হাবিবুর মারা গেছেন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্র জানান, সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাবিবুরকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তখন তিনি অচেতন ছিলেন। পরে তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করানো হয়।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছিলেন যে, হাবিবুর রহমান অচেতন হওয়ার আগে বুকে ব্যথার কথা বলেছিলেন। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও হাবিবুরের জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হয়নি। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত হাবিবুরের স্বজন এবং সহকর্মীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার জানান, তাকে কোন টর্চার করা হয়নি। তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এমন সুযোগও তো পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে ডিবি সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপরেও এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফএম/ওএফ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button