TechTricks

১০টি Dangerous Android Apps যেগুলো ইনস্টল করা অনুচিত, সাথে বিকল্প সমাধান

স্মার্টফোনে ভাইরাস বেড়েছে

Statcounter এর তথ্যমতে,

সারাবিশ্বে স্মার্টফোনের মধ্যে প্রায় ৭০% অ্যান্ড্রয়েড, ১% অন্যান্য, আর বাকিগুলো আইফোন ইউজার। বাংলাদেশে ৯৫% লোকজনই অ্যান্ড্রয়েড ইউজ করে।

অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে বিগত কয়েক বছরে এই প্ল্যাটফর্মে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে লক্ষ্যনীয় হারে।

ছদ্মবেশী অনেক অ্যাপস ইউজারের ডাটা হাতিয়ে নেয়ার জন্য নানা ফাঁদ পাতে। এসব অ্যাপস অনেক সময় খুবই দরকারী ও আকর্ষনীয় মনে হলেও এগুলো থেকে দূরে থাকলে আপনারই মঙ্গল।

নিচে আমি কিছু জনপ্রিয় ও নাম না জানা অ্যাপের তালিকা তুলে ধরছি ও কেন তারা খারাপ রেপুটেশন জোগাড় করেছে সেই কীর্তিকলাপও বর্ননা করছি। সাথে এদের বিকল্প অ্যাপও সাজেস্ট করব। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রাইভেসির প্রতি যত্নবান হলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।

 

১১টি Dangerous Android Apps

১। ES File Explorer

একসময়ের জনপ্রিয় ফাইল ম্যানেজার ES File Explorer অনেকেরই ফেভারেট। অনেক ফিচারসমৃদ্ধ এই অ্যাপটি রুটেড ফাইল ম্যানেজার হিসেবেও ইউজ করা যায়।

es file explorer logo

কেন ES File Explorer ইউজ করবেন নাঃ অপ্রয়োজনীয় কারনে অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড টাস্ক রান করায় এটির র‍্যাম ইউসেজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বাই ডিফল্ট অন থাকায় অনেক অদরকারী নো্টিফিকেশন সেন্ডের পাশাপাশি অ্যাডস ছড়িয়ে থাকে পুরো অ্যাপ জুড়ে; যে কারনে প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ব্যান করা হয়েছে।

এটার অনেক ক্লোন ভার্শন প্লে স্টোরে থাকলেও অরিজিনাল ES File Explorer এর ডেভেলপার হল ES Global.

বিকল্পঃ Files by Google অনেক ফোনেই এখন প্রি ইনস্টলড দেয়া থাকে। গুগলের প্রোডাক্ট তাই কোয়ালিটি নিয়ে টেনশনের কারন নেই। অন্য স্টক ফাইল ম্যানেজার গুলোও কাজ চালিয়ে দেয়ার মত। স্যামসাংএর ফাইল ম্যানেজারটিও আমার ভালোই লেগেছে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি Mixplorer ইউজ করি ম্যাটারিয়াল ডিজাইন থিম দিয়ে। নিরানন্দ ইন্টারফেসকে ঝাকানাকা রূপ দিতে থিমের অবদান অনবদ্য। গুগলে সার্চ করুনঃ themes for mixplorer

 

২। Cashzine

Cashzine একটি নিউজ প্রোগ্রাম যেটি বিভিন্ন সোর্স থেকে খবর কালেক্ট করে ইউজারকে এক জায়গায় শো করে। নাম শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন, অ্যাপ ইউজের জন্য তারা লোকজনকে ক্যাশ রিওয়ার্ডও দেয়।

cashzine dangerous android app

 

কেন Cashzine ইউজ করবেন নাঃ cashzine.news – ডেভেলপারের ওয়েবসাইটটি আলিবাবায় হোস্ট করা, যেটা চাইনিজ সার্ভার।

নিউজ পড়ার প্রতিদানে টাকাকড়ি দেয়ার কথা বললেও প্লে স্টোরে 2.8 star আর 18+ age rating দেখে মনে হয় না এখান থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারবেন। একটা নিউজ পোর্টাল পড়তে কেন সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে?

আর ডাটা কালেকশনে লোকেশন পারমিশন চাইছে, যা অযৌক্তিক।

বিকল্পঃ এর চেয়ে Microsoft News তো অনেক বেটার। কোনো আজেবাজে পারমিশন চায় না, সাথে মাইক্রোসফটের প্রোডাক্ট হিসেবে রেটিংও ভালো।

 

৩। QuickPic

নাম দেখেই আন্দাজ করা যায় এটি গ্যালারী অ্যাপ। প্রোগ্রামটির ইউজারবেস ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলেও একসময় Cheetah Mobile এটিকে কিনে নেয়।

quickpic dangerous android app

 

কেন QuickPic ইউজ করবেন নাঃ Cheetah Mobile এর কাহিনী তো শুনেই থাকবেন – বিজ্ঞাপন জালিয়াতির নকশায় গুগল তাদেরকে প্লে স্টোর থেকে ব্যান করে।

কুইকপিকের ভাগ্যেও তেমন কিছুই ঘটেছিল। চিতার কাছে বলি হওয়ার পর থেকেই অ্যাপটির রেটিং কমতে থাকে। সাথে ইউজারদের ডাটা নাকি তাদের সার্ভারে আপলোডের রিপোর্ট উঠে। ডিফল্ট গ্যালারীর বাইরে আসলে অন্য কিছু ইউজ না করাই ভালো।

বিকল্পঃ কিন্তু যদি স্টক গ্যালারী ভালো না লাগে? আমারও Google Photos ভালো লাগেনি তাই প্লে স্টোর থেকে Simple Gallery ইউজ করছি, পারফরমেন্স মোটামুটি ভালোই। ওদের আরো অনেক অ্যাপ আছে সবই শুরু ‘simple’ শব্দটা দিয়ে – Simple Camera, Simple Notes. A+ Gallery অ্যাপটিও ভালো চয়েস।

 

৪। Dolphin Browser

অ্যাড ফ্রি, মডার্ন ইউআই, ফ্ল্যাশ সাপোর্টেড একটি ব্রাউজার। ডলফিনপ্রেমীদের জন্য তো এক্সট্রা বোনাস, কারন ব্রাউজারটির নামই ডলফিন।

dolphin browser on play store

 

কেন Dolphin Browser ইউজ করবেন নাঃ কুখ্যাত UC Browser থেকে এটি কোনো অংশে ভিন্ন না। ইনকগনিটো মোডের ব্রাউজিং হিস্টোরিও লগ রাখার রিপোর্ট উঠেছে এই ব্রাউজারের বিরুদ্ধে।

আর এটা এখনো ফ্ল্যাশ সাপোর্টেড যেটা খুবই রিস্কি ব্যাপার। কারন ২০২০ সাল থেকে অ্যাডোবি অফিশিয়ালি ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের সাপোর্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

তাই হ্যাকাররা যাতে কোনো বাগ কাজে লাগিয়ে ইউজারের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য অ্যাডোবি খুব জোর দিয়ে সবাইকে ফ্ল্যাশ বাদ দিতে বলেছে।

এটা মডার্ন ওয়েবের যুগ। এই যুগে ফ্ল্যাশের ভাত নাই – মানেন আর না মানেন।

বিকল্পঃ Brave বা Firefox ইউজ করুন। ক্রোমও অত সুবিধার না। রিসেন্টলি আমি Chrome থেকে Brave ব্রাউজারে শিফট হয়েছি। ইন্টারফেস, পারফরমেন্স সব একই কিন্তু Brave অনেক কম রিসোর্স খায় ক্রোমের তুলনায়।

 

৫। Fildo

মিউজিক লাভাররা হয়তো এই অ্যাপটির নাম শুনে থাকবেন। একসময় অ্যাপটি জনপ্রিয় ছিল বিভিন্ন সোর্স থেকে ফ্রীতে মিউজিক এনে দেয়ার জন্য।

কেন Fildo ইউজ করবেন নাঃ একটা ব্যাকডোর এপিআই দিয়ে চাইনিজ কোম্পানী Netease এর সার্ভার থেকে মিউজিক ডাউনলোড করে দিত Fildo. Netease পরে যদিও ঐ বাগটি ফিক্স করে। কিন্তু Fildo ট্রাস্ট করা উচিত নয়, এটি এখন প্লে স্টোরে নাই।

বিকল্পঃ Spotify বা Ymusic ইউজ করুন। Vanced দিয়েও ব্যাকগ্রাউন্ডে গান শোনা যায়।

 

৬। NewsDog

আবারো নাম শুনে ধারনা করা যায় এটি নিউজ রিলেটেড কোনো সফটওয়্যার। যদিও এটি খালি কুত্তার খবরই প্রচার করে সেটা ভাববেন নাহ। বিভিন্ন সোর্স থেকে টপিকভেদে নিউজ পুল করে ইউজারের সামনে তুলে ধরে NewsDog. বিনোদন ক্যাটাগরিতে ফোকাসড এই পোর্টালে ইউজার নিজেরাও স্টোরি সাবমিট করতে পারে।

কেন NewsDog ইউজ করবেন নাঃ কারন এটিও প্লে স্টোরে নেই, কিন্তু আছে ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্টের ব্যান করা ৫৯টা চাইনিজ অ্যাপের লিস্টে।

বিকল্পঃ গুগল নিউজ স্টোরি তো প্রায় সব ফোনের লঞ্চারের সাথেই এম্বেড থাকে, ওটাই যথেষ্ট নয় কি?

 

৭। LiveMe

টিকটকের মত ইউজার জেনারেটেড ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ।

LiveMe app on play store

কেন LiveMe ইউজ করবেন নাঃ কেন করবেন? খারাপ রেটিং আর ম্যাচিউর এজ ওয়ার্নিং, সাথে  বাজে সব প্র্যাকটিস এসব অ্যাপের ভেতর। টিকটক আর এটার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? Helo, Hago, Bigo – প্লে স্টোর তো এসব টিকটক ক্লোন দিয়ে ভর্তি।

বিকল্পঃ এসব অ্যাপ থেকে জীবনে দূরে থাকাই শ্রেয় যদি না আপনি নিজেই টিকটক ইউজার। তবে যেহেতু ট্রিকবিডি এসে এই পোস্ট পড়ছেন তাই ধরে নিতেই পারি আপনি ঐসব পাগল ছাগলের মধ্যে পড়েন নাহ 😛

 

৮। CamScanner

CamScanner খুবই জনপ্রিয় ডকুমেন্ট স্ক্যানিং অ্যাপ। যেকোনো ছবিকে PDF ফরম্যাটে জেনারেট করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ট্রিকবিডিতে এখনো এটার ক্র্যাক নিয়ে পোস্ট হয়।

কেন CamScanner ইউজ করবেন নাঃ অ্যাপটিতে কোনো ভাইরাস না থাকলেও তাদের একটি খারাপ ইতিহাস আছে। ক্যামস্ক্যানারের পুরাতন কয়েকটি ভার্শনে ক্ষতিকর Trojan-Dropper module এম্বেড ছিল, যেটা ইউজারদের পেইড অ্যাডস শো করে সাবস্ক্রিপশনের জন্য সাইন আপ করিয়ে নিত।

তাই প্লে স্টোর থেকে সিকিউরিটিজনিত সমস্যা হিসেবে অ্যাপটি রিমুভ হয়। পরে ডেভেলপাররা advertising SDK সরিয়ে 5.12 ভার্শনে অ্যাপটি ফিক্স করে প্লে স্টোরে আনে।

APKMirror থেকে পুরাতন ভার্শনগুলো আমি VirusTotal দিয়ে চেক করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছিঃ

5.11 – apkmirror, virustotal; 5.12 – apkmirror, virustotal – নিজেই চেক করে দেখুন।

বিকল্পঃ যদিও ঘটনাটা অনেক আগের, আর ক্যামস্ক্যানার অলরেডি সেটা ঠিক করে ফেলেছে, তাই লেটেস্ট ভার্শনগুলো ইউজ করতে ভয় নেই। এর বাইরে Microsoft Lens একটি ভালো অপশন। ফোনের গুগল অ্যাপেও বিল্ট-ইন লেন্স ক্যামেরা থাকে।

 

৯। Crazy Drop

গেমস খেলে টাকা আয় – আহা! এই অ্যাপে আছে নানা রকম গেমসের সমাহার যা ইউজারদের দ্রুত বড়লোক বানিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কেন Crazy Drop ইউজ করবেন নাঃ ইংরেজিতে একটা কথা আছে,

If something seems too good to be true, it probably is.

গেমস খেলে আর অ্যাড দেখে ইনকামের পরিমানটা আসলে অনেক কম। তাই যখন দেখবেন কোনো অ্যাপ সাইন আপের সাথেই ১০ ডলার বোনাস, প্রতি স্পিনে ১ ডলার করে ইনকামের কথা বলে, ওগুলো পরে পেমেন্ট করে না। কারন টাকাটা আসবে কোথা থেকে?

পাবলিককে বোকা বানিয়ে নিজেরা কিছু আয় করে ভেগে যাওয়াই তাদের মূল নিয়ত। তাই যত কম সময়ে লোভনীয় সব অফার দিয়ে যত বেশি ইউজার ধরতে পারে সেটাই থাকে তাদের মেইন টার্গেট

ওদের ওয়েবসাইটের সার্ভারটা যদিও আমেরিকায়, কিন্তু ওটা চলছে আলিবাবা ক্লাউডে – চাইনিজ কোম্পানী।

বিকল্পঃ ট্রিকবিডিতে হরহামেশাই বিভিন্ন আর্নিং অ্যাপ নিয়ে পোস্ট হয়, তাই নিয়মিত চোখ রাখুন এখানে। কোনো অ্যাপে কাজ শুরুর আগে নিজে রিসার্চ করে নিন, রিভিউ দেখুন, অন্যরা পেমেন্ট পেয়েছে কিনা দেখুন, আর পরিশ্রমের তুলনায় ইনকামের পরিমান কেমন সেটাও মাথায় রাখুন।

 

১০। TrueCaller

অজানা কোনো নাম্বার থেকে কল আসলে তার পরিচয় জানার জন্য এই অ্যাপের জুড়ি মেলা ভার।

এখনো অনেক অনেক পাবলিক আছে যারা TrueCaller ইউজ করে। আমিও চোখ বন্ধ করে বলতে পারি আমার কিছু বন্ধু এমনকি ফ্যামিলির কয়েকজনও এটার বড় ভক্ত।

নানা ফিচার দিয়ে তারা ইউজারকে আকৃষ্ট করে। যেমন ট্রুকলার থেকে অন্য ট্রুকলারে নেট কানেকশন দিয়ে মেসেজ পাঠানো যায়, হোয়াটসঅ্যাপের মত। তাদেরও স্প্যাম প্রোটেকশন আছে আর রিসেন্টলি শুনলাম VoIP প্রোটোকল দিয়ে কল ফিচারও চালুর চিন্তাভাবনা করছে।

truecaller banner

 

কেন TrueCaller ইউজ করবেন নাঃ টেক দুনিয়ার একটু অধটু খবর রাখলেও আপনি জেনে থাকবেন যে এই অ্যাপটি ইউজ করা ক্ষতিকর।

এটি শুধু ইউজারদের নিজেদের কন্ট্যাক্ট ডিটেইলস কালেক্ট করে না, তাদের ফোনে থাকা অন্য সব নাম্বারও সার্ভারে ইনডেক্স করে। অর্থাৎ নিজের নাম্বারের সাথে অন্যদের নাম্বারও দিয়ে দিচ্ছেন ট্রুকলারে। সবাই চায় না তাদের তথ্য অজানাভাবে লিক হয়ে যাক।

অবশ্যই তারা ইউজারের পারমিশন নিয়েই এটা করে অ্যাপটি চালানোর জন্যই, যেহেতু যত বেশি ইউজার, তত বেশি নাম্বার আর তত বেশি নিখুঁত তথ্য।

কিন্তু এখানেই সমস্যা। আপনি ট্রুকলারকে ট্রাস্ট করতে হবে আপনার সব নাম্বার তাদের সার্ভারে সেইফ রাখার জন্য ও থার্ড পার্টির সাথে কিভাবে এসব ডাটা লেনদেন করে তার জন্য।

অতীতে Truecaller হ্যাক হওয়ার রেকর্ড আছে। ইন্ডিয়াতে যদিও ব্যান না, কিন্তু অনেকবার এটা নিয়ে শোরগোল উঠেছে।

বিকল্পঃ ফোনের ডিফল্ট কলিং অ্যাপ ইউজ করুন। বর্তমানে অধিকাংশ ডিভাইসই Google Dialer প্রি-ইনস্টল করে দেয়। স্প্যাম প্রোটেকশন ওখানেও আছে।

আর অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলে সমস্যা কি? পরিচিত সবার নাম্বার সেভে রাখুন, অজানা নাম্বার থেকে কল আসলে ধরবেন না, ব্যস। প্রতারক হলে বুঝে নিতে শিখুন, এখন মানুষজন অনেক স্মার্ট, ধান্দাবাজরা আগের মত সুবিধা করতে পারে না। আর ট্রিকবিডিতে থাকা মানে আপনি অলরেডি অধিকাংশ পাবলিক থেকে স্মার্ট ☺

যাকে তাকে নাম্বার দিবেন, আজেবাজে জায়গায় নাম্বার দিয়ে সাইন আপ করবেন, ফেসবুকে নাম্বার পাবলিক করে রাখবেন, কল তো আসবেই।

 

১১। Mail Master

Outlook, Gmail, MailBird এসবের মত একটা মেইল ক্লায়েন্ট হল Mail Master. ইমেইল ম্যানেজ করার জন্য এটা ইউজ করা হয়।

কেন Mail Master ইউজ করবেন নাঃ এটাও চাইনিজ কোম্পানি Netease এর আরেকটা অ্যাপ।

বিকল্পঃ ইমেইলের মত সেনসিটিভ ডাটায় যেনোতেনো অ্যাপ ইউজ করবেন না। Gmail, Outlook, Thunderbird বা BlueMail ইউজ করুন।

 

আরো কিছু অ্যাপস যেগুলো থেকে দূরে থাকবেনঃ

  • সব ধরনের ক্লিন মাস্টার টাইপের অ্যাপ। এতদিনে তো জেনেই গেছেন অ্যান্ড্রয়েডে এসবের দরকার পড়ে না। এরা বরং উল্টো রিসোর্স খেয়ে ফোনের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
  • সেইম কথা খাটে অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের ক্ষেত্রেও। গুগল প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েডকে সেইফ রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটু কমন সেন্স, আর সতর্কতাই এখানে এনাফ।
  • QQ দিয়ে শুরু হওয়া সব অ্যাপ। এগুলো চাইনিজ টেক Tencent কোম্পানীর অ্যাপস, যেমনঃ QQ Music, QQ Browser. যদিও কেউ এসব অ্যাপস চাইলেও ইউজ করতে পারবে না কারন সব চাইনিজ ভাষায় আর রিজিয়ন লক চায়নার বাইরে এগুলো চালানো যায় না। তাও জেনে রাখা ভালো আর কি।

বোনাসঃ S.M.T.H. – Send Me To Heaven

অ্যাপটি আপনাকে স্বর্গে না পাঠালেও পাঠিয়ে দিতে পারে আপনার ফোনকে। এই অ্যাপ দিয়ে আপনার ফোন উপরে ছুড়ে মারতে হবে, কত উপরে উঠল সেটা সেন্সর দিয়ে হিসেব করে একটা রেজাল্ট দেখাবে। ওদের আবার লিডারবোর্ডও আছে, কে কত উপর উঠাল তাদের ফোন সেটারই একটা লিস্ট।

send me to heaven app

এখন, কমন সেন্স নামক জিনিসটি কারো ভেতর বিদ্যমান থাকলে সে অবশ্যই এমন কাজ করবে না, তাই না? নিজের ফোন উপরে ঢিল মেরে রেকর্ড করার মধ্যে তো কোনো অর্থই আমি দেখি না।

যদি ফোন ছোড়ার সময় শূন্যে থাকা অবস্থায় ঘুরতে থাকে, তাহলে অ্যাপটা ঠিকমত কাজও করে না। মানে কত উপরে উঠল সেটা তখন ঠিকভাবে মাপতে পারে না। যেহেতু সেন্সরের উপর নির্ভর, তাই ফোন ঘুরতে থাকলে সেন্সর ভুল ডাটা দেখাবে।

Dangerous android apps এর তালিকায় না পড়লেও প্লে স্টোরের ডেসক্রিপশনে তারা নিজেরাই বলে দিয়েছে এই অ্যাপ সাবধানে ইউজ করতে, আর ছোড়ার সময় সোজা করে ছুড়তে যাতে ডিভাইস না ঘুরে। না জানি কত মানুষের ফোন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করছে এই অ্যাপের উসিলায়।

 

অ্যাপস ব্যবহারে সতর্ক হোন

রেপুটেবল সোর্স থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন। সবসময় প্লে স্টোর ইউজ করবেন। এর বাইরে Aurora Store আছে যেটা প্লে স্টোর থেকেই apk ফেচ করে দেয়। সাথে আছে ওপেন সোর্স অ্যাপের সমাহার নিয়ে F-droid.

যখন কোনো অ্যাপের উপর সন্দেহ হবে, এর পারমিশনগুলো চেক করবেন, যেমন একটা ক্যালকুলেটর অ্যাপ যদি কন্ট্যাক্টসের পারমিশন চায় তাহলে ওটা বাদ দিন।

পোস্টটি বেশ বড় হয়ে গেছে, এর জন্য দুঃখিত। চাইলে ছোট করেই লিখতে পারতাম কিন্তু তাতে সব ডিটেইলস দেয়া হত না। লিখাটা কেমন হয়েছে মন্তব্যে জানাবেন প্লিজ। আপনার একটা ছোট্ট মন্তব্যই লেখকদের লেখনী আরো বেটার করতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button