TechTricks

যে ৬ টি জিনিস ব্যবহার করে shorts, reel গুলো trending এ থাকে আর হাজার হাজার views পায়


ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকে মানুষ খুব সম্ভবত যেখানে সবচেয়ে সময় ব্যয় করে সেটি হলো reels.বিভিন্ন ধরনের রিলস ফেসবুকে পাওয়া যায়।সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে meme থেকে sports reel কিংবা বিভিন্ন pet video থেকে technology reels.

ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এর অ্যালগরিদম এমন যে এটি ইউজারদের থেকে বেশি করে সময় ব্যয় করাতে চায়।

এজন্য‌ই দেখবেন আপনার ট্রেন্ডিং এর এখানে একের পর এক ভালো ভালো রিলস আসতে চলেছেই।সাধারনত যারা ব্যবহারকারী তাদের preference,কোন ধরনের reel এ সে গড়ে কত সময় ব্যয় করছে এর উপর ভিত্তি করে এসব অ্যালগরিদম সাজেস্ট করে।

যারা নিজেরা এ ধরনের রিলস তৈরি করে থাকেন আপনাদের অনেকের হয়তো পছন্দমতো ভিউ আসে না।সাধারনত নিজেদের কন্টেন্ট এ বেশি করে ভিউ,লাইক কমেন্ট ইত্যাদি পেলেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।আর এখন রিলস তৈরি করাও একদম সহজ। বিভিন্ন ধরনের এআই, টেকনোলজি নিউজ,গেমিং ক্লিপ, কপিরাইট কন্টেন্ট নিয়ে রিলস বানানো যায়।

আজকে দেখাবো এমন ৭ টি জিনিস যেগুলো সাধারনত trending এ থাকা reels গুলোতে থাকে।এর ফলে আপনারা একটি ক্লিয়ার ধারনা পাবেন কিভাবে নিজেদের reels কে আরো ভালোভাবে সাজানো যায়।

শুরুতে audio hook হিসেবে Riser এর ব্যবহার


আমরা সাধারনত কৌতুহল হলে বা প্রথম কয়েক সেকেন্ডে ভালো লাগলে তবেই reels সম্পূর্ণ দেখি। তবে মানুষজনকে কৌতুহলি করে তোলার একটি সহজ পদ্ধতি হচ্ছে riser এর ব্যবহার।
Riser জিনিসটি কি? এটি হচ্ছে সেই টেনশন বা ক্লাইম্যাক্স ধরনের অডিও যেখানে সাউন্ডের pitch অনেক তীক্ষ্ণ হয় আর দ্রুত কম থেকে বেশি ভলিউমে গিয়ে পৌছায়।

এটি ভালোভাবে বোঝাতে নিচে একটি অডিও অ্যাড করলাম।একটু খেয়াল করলে দেখবেন যেসব রিলস ট্রেন্ডিং এ থেকে মানুষের সামনে আসে তাদের একটি বড় অংশ এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। এ ধরনের টেনশন সাউন্ড ব্যবহার করলে সাধারনত মানুষদের মধে বেশি করে কৌতুহল তৈরি হয়। ফলে সে reels টি সম্পূর্ন দেখতে আগ্রহবোধ করে।

ভিজ্যুয়াল হুক Question বা story telling দিয়ে শুরু করা


এটি সম্ভবত সবচেয়ে কমন একটি ট্রিকস। হুক হচ্ছে সেই অপেনিং পার্ট যেখানে ইউজারদের অ্যাটেনশন পেতে সবচেয়ে ভুমিকা রাখে। এজন্যই অনেক রিলস দেখবেন question কিংবা স্টোরি টেলিং দিয়ে শুরু হয়।
এটিকে একটি ক্রিটিক্যাল পার্ট‌ও বলা যায়।এই হুক অংশের উপরেই অনেকখানি নির্ভর করে মানুষ আপনার রিলস দেখবে কি দেখবে না।আপনি যত ভালোভাবে এই অংশে মানুষের মনে কৌতুহল তৈরি করতে পারেন তত ভালো। আর এর জন্য কোয়েশ্চন কিংবা স্টোরি টেলিং একটি চমৎকার পদ্ধতি। এজন্য‌ই অনেক রিলস দেখবেন এটি দিয়ে শুরু করছে। এ ধরনের কয়েকটি হুক হলো

Did you know,

Are you still,
Stop doing ..ইত্যাদি ইত্যাদি।

Split screen এর ব্যবহার


সময় বদলেছে, বেড়েছে মানুষের ব্যস্ততাও।ফলে এখন সবার হাতেই সময় কম। সবাই চায় এখন কম সময়েই কাজ সারতে।

ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম যখন reels বা shorts ফিচারটি নিয়ে আসে তখন তাদের উদ্দেশ্য‌ই ছিল এ সময়সল্পতার উপর। যাতে করে মানুষ ভিডিও এর মতো একটি লম্বা সময় ব্যয় না করে কিছু সময়ের মধ্যেই এটির insight নিতে পারে। মোটামুটি বলা চলে এটি একটি সফল পদক্ষেপ ছিল।

Split screen এর ব্যবহার একদিকে যেমন মানুষকে এক স্ক্রিনেই মাল্টি ভিউ দেখায় তেমনি সময়‌ও বাঁচায়। ফলে মানুষ পুরোপুরি দেখতে উৎসাহিত হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরন cooking রিলেটেড reels গুলো।

খেয়াল করে দেখবেন একটি বড় অংশ এই ফরম্যাটে তৈরি করা। এখানে multiple split screen এ দেখানো হয়। এর আরেকটি বড় উদাহরন যারা aesthetic ধরনের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন। বিভিন্ন ফুটেজ আর ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক দিয়ে মাল্টিপল স্ক্রিন নিয়ে অনেক রিলস দেখা যায় যেগুলো আবার ট্রেন্ডিংএ ও থাকে।

fast transition এর ব্যবহার

reels যেহেতু স্বল্প সময়ে এনজয় করার জন্য তৈরি করা হয় তাই fast transition এর ব্যবহার খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে। রিলস এ কখনোই একটি দীর্ঘ scene দেখানো উচিত নয়। বরং এখানে মাল্টিপল scene এর দ্রুত ট্রানজিশন ব্যবহার করা উচিত।

ইউজাররা মূলত অবচেতন ভাবে এগুলোর প্রতিই আকৃষ্ট হয়। এজন্য সাজেশন এর রিলগুলোতে দেখবেন fast transition দেখানো হয়। সেখানে এক সিন থেকে আরেক সিন খুব দ্রুতই বদলে যায়। এতে করে যারা রিলস দেখে তারা যেমধ স্বল্প সময়ে পুরো বিষয়টি বুঝতে পারে তেমনি মেকার অ্যালগরিদম‌ও এটিকে ভালো হিসেবে গন্য করে। এজন্য আরো অনেক মানুষের feed এ এটি দেখাতে শুরু করে। নিজেদের রিলস গ্রো করার জন্য এটি একটি চমৎকার মাধ্যম হতে পারে।

overlay এবং অ্যানিমেশন এর ব্যবহার


একটি বিষয় খেয়াল করেছেন প্রায় সকল কমপক্ষে ৭০% আমরা যেসব রিলস দেখি সেখানে ওভারলে আর অ্যানিমেশন এর ব্যবহার হয়?
একটি ভিডিও সাবলীল হ‌ওয়ার জন্য ভালোমানের মানানস‌ই overlay আর animation গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রিয়েটরদের সবচেয়ে কমন যে মিসটেক দেখা দেয় তারা সঠিক overlay আর অ্যানিমেশন পিক‌আপ করতে পারে না।

Overlay আর অ্যানিমেশনের জন্য আপনারা Dhrub rathee চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন। Dhruv rathee এর overlay effect গুলো খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন কি বোঝাতে চাইছি।
তাছাড়া যারা মিউজিক কিংবা aesthetic ধরনের reels এর কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাদের জন্য overlay must একটি জিনিস।

রিলস টাইম এর উপর হেভিলি ডিপেন্ডেন্ড একটি ফরম্যাট। সুতরাং দ্রুততার সাথে ইমপ্রেশন তৈরি করতে overlay আর animation এর জুড়ি নেই।এই overlay নিয়ে আমার আগের লেখা একটি লিংক যোগ করে দিলাম।যত ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে এসব অ্যাপ্লাই করতে পারবেন তত‌ই সেটি ভিউয়ার ধরে রাখতে সক্ষম হবে। ফলে অ্যালগরিদম অনুযায়ী সেটি ট্রেন্ডিং এ চলে যাবে।

জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের Transition এবং overlay রিসোর্সগুলো যেভাবে ফ্রীতে ব্যবহার করবেন

Sticky caption এর ব্যবহার


এটি মূলত কপিরাইট কন্টেন্ট এর জন্য উপযোগী।আরো ভালোভাবে বললে যারা বিভিন্ন band music এর গান দিয়ে রিলস তৈরি করে তারা এটি ব্যবহার করে থাকে।

Sticky caption হলো সেই জিনিস যেটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্ক্রিনে থাকে কোন ধরনের পরিবর্তন ছাড়া। এ ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে মূল কন্টেন্ট থাকে।ব্যাকগ্রাউন্ডের সিন এ একের পর এক জিনিস চেন্জ হয়। ফ্রেমিং বদলে যায়।দৃশ্য বদলে যায়। কিন্তু মেইন যে জিনিসের উপর ফোকাস সেটির ক্যাপশন সবসময় থাকে।

আরেকটু সহজভাবে বললে আপনারা অনেকে দেখবেন Childhood memories, 90’s vive ইত্যাদি ক্যাপশন দিয়ে ( middle/bottom screeen এ) বিভিন্ন reels তৈরি করা হয়। পিছনে মেইন কন্টেন্ট থাকে যেটির চেইন্জ হয় বা দৃশ্যের রদবদল ঘটে‌। কিন্তু ক্যাপশনের চেইন্জ হয়না। এটিই sticky caption.

যেসব reel ট্রেন্ডিং এ থাকে তাদের মধ্যে আপনারা এ বিষয়টি হয়তো দেখে থাকবেন।

আজ এই পর্যন্তই। আশা করি ভাল লাগবে। আপনাদের মতামত জানাতে পারেন। ট্রিকবিডিতে সাথেই থাকুন।পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button